ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যেন এবার অঘটনের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। নরওয়ের ছোট শহরের ক্লাব বোডো/গ্লিম্ট আবারও প্রমাণ করল—নাম নয়, সাহস আর পরিকল্পনাই বড়। প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে নেমেই তারা ডিফেন্ডিং রানার্সআপ **ইন্টার মিলান**কে ৩–১ গোলে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ফুটবলবিশ্বকে।

বুধবার রাতে নরওয়ের উত্তরের শহর বোডোর আস্পমাইরা স্টেডিয়াম ছিল যেন এক রূপকথার মঞ্চ। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইন্টার মিলানের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। বল দখলে এগিয়ে থেকে তারা ধীরে ধীরে ম্যাচের ছন্দ গড়ার চেষ্টা করে। ২০ মিনিটে মিডফিল্ডার সোন্দ্রে ব্রান্সটাডের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বোডো/গ্লিম্ট। তবে ইতালিয়ান জায়ান্টরা বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি। ৩০ মিনিটে পিও এস্পোসিতোর গোলে সমতায় ফেরে ইন্টার।

প্রথমার্ধে ম্যাচ ছিল তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন দৃশ্যপট বদলে যায়। বোডো/গ্লিম্টের দ্রুত পাসিং, গতিময় আক্রমণ আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এলোমেলো হয়ে পড়ে ইন্টার রক্ষণ। ৬১ ও ৬৪ মিনিটে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে জেন্স পিটার হাউগ ও ক্যাসপার হগের দুটি গোল গ্যালারিকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়। মাত্র আট হাজার দর্শক ধারণক্ষম স্টেডিয়াম তখন যেন উত্তাল সমুদ্র।

পরিসংখ্যান বলছে, বল দখলে এগিয়ে ছিল ইন্টার। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে পড়ে। বোডো/গ্লিম্ট কম সুযোগ পেয়েও বেশি কার্যকর ছিল। এর আগেই এই মাঠে গিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি এবং অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছিল—সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ইন্টার মিলানও।

এই হারে শেষ ষোলোয় ওঠার পথ কঠিন হয়ে গেল ইতালিয়ানদের জন্য। আগামী মঙ্গলবার ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগে বড় ব্যবধানে জয়ের বিকল্প নেই **লাউতারো মার্টিনেজ**দের। অন্যদিকে, অভিষেক আসরেই ইতিহাস আরও রাঙাতে স্বপ্ন দেখছে বোডো/গ্লিম্ট—যাদের রূপকথা এখন ইউরোপজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।