নির্বাচনী প্রচারণার নামে সহিংসতা, নারী হেনস্তা ও হামলার মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াত নেতারা। তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জামায়াতের নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে ভয়ভীতি, শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রচারণায় বাধার ঘটনা ঘটছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে আগামী রোববার বিকেল তিনটায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘন, মামলা ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নারী হেনস্তাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে।

জামায়াতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জানুয়ারি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় দলটির সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঝিনাইগাতীতে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হন। একই সময়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং সাধারণ ভোটার ও ভিক্ষুকদের মারধরের ঘটনাও ঘটে।

নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, যশোর, নোয়াখালী ও কুষ্টিয়ায় একাধিক স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে এক আলেমের মা ও নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে। সীতাকুণ্ড ও নওগাঁতেও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ আসনে টাকা বিতরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়া, ঢাকায় ইমাম-খতিবদের মধ্যে অর্থ বণ্টন, ফরিদপুর ও সীতাকুণ্ডে মিছিলে হামলা ও ব্যানার পোড়ানোর অভিযোগও তুলে ধরে জামায়াত।

শেষে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটি মহল আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখতে চাইছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।