বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিনের পাহাড়ি-বাঙালি উত্তেজনা ও বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে বৈষম্য নয়, ন্যায়ভিত্তিক সহাবস্থানই হবে জামায়াতের নীতি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পার্বত্য এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা দেশের জন্য কখনোই মঙ্গলজনক নয়। এই অশান্তি অব্যাহত থাকুক—জামায়াতে ইসলামী তা চায় না। সরকারে গেলে পাহাড়ের সমস্যাগুলো বাস্তবতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে যারা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ফায়দা লুটতে চায়, জামায়াত তাদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। পাহাড়ে বসবাসকারী সব জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ৪১ দফার নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো তুলে ধরেন দলটির আমির। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহারের মোড়ক উন্মোচন করেন। ‘জনতার ইশতেহার’ নামের এই ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাহাড় হোক বা সমতল—বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সমান মর্যাদা ও অধিকার পাওয়ার দাবিদার। বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্য ও ইনসাফের রাজনীতির মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।