ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সুযোগ থাকবে না বলেই একটি গোষ্ঠী ইসলামী শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, “৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ইসলামের কথা উঠলেই দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজরা আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করে।”

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনসংলগ্ন সড়কে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী শাসনের অধীনে সাধারণ মানুষ প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা ভোগ করে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি চরমোনাই এলাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে অমুসলিমরাও নিজেদের নিরাপদ মনে করেন এবং তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তিনি দেশকে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা থেকে মুক্ত করতে হাতাপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনেও ছাত্র ও তরুণরা রাজপথে জীবন দিয়েছে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের আশায়। কিন্তু স্বাধীনতার পর সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং দুর্নীতি, খুন, গুম ও অর্থপাচারের সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং দেশ বারবার দুর্নীতিতে শীর্ষে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “জুলাই আমাদের সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।”

ভাগ্য পরিবর্তনের একমাত্র পথ হিসেবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আদর্শই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা—ইতিহাস তার প্রমাণ বহন করে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। সভায় বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।