বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে কাজ করার সময় যারা দলের মা-বোনেদের অসম্মান করার চেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত মানুষ নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি তারা ক্ষমতায় আসে, দেশের পরিবেশের কি পরিণতি হবে, তা সহজেই অনুমেয়।” তবে দেশের মা-বোনেরা আজ ঐক্যবদ্ধ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে সবাই এর ফল দেখতে পাবে।
শনিবার বিকেলে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জাতি কখনো ভাবেনি যে ফ্যাসিস্টরা এমনভাবে অপদস্ত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশবাসী এর ফলাফল দেখবেন। সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আগের সরকার দেশের অর্থনীতি লুট, ব্যাংক ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে দুর্নীতির সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে।”
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও স্বৈরাচারের নৃশংসতার কথা তুলে ধরেন। স্মৃতিঘরে প্রদর্শিত ‘আয়না ঘর’-এর শিক্ষণীয় উদাহরণ থেকে দেশের নতুন প্রজন্মকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন। এছাড়া জামায়াতের ১১ নেতাকে মিথ্যা অভিযোগে হত্যা, এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীর প্রাণহানি এবং দলীয় প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসের বিষয়ও উল্লেখ করেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রীরা দেশে মানুষের রক্ত নিয়ে খেলেছে এবং নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তিনি দেশের মা-বোনেদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সভায় নির্বাচনী প্রতীক হাতে তুলে দেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াত কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল জব্বার ও ছাত্রশিবির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।