আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামে ঘোষিত এই ৪১ দফার ইশতেহারে সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর কল্যাণ এবং আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারের রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার অধ্যায়ে বলা হয়েছে, নারী সমাজের যোগ্যতা ও দক্ষতাকে মূল্যায়ন করে সরকার পরিচালনার সর্বোচ্চ স্তরে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জামায়াতের দাবি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর উপস্থিতি বাড়লে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার আরও শক্তিশালী হবে।
নারী ও শিশু নিরাপত্তা বিষয়ে ইশতেহারে পৃথক অধ্যায় রাখা হয়েছে। সেখানে নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর জোর দেওয়া হয়। সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন, গণপরিবহনে নিরাপত্তা জোরদার, জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা চালু এবং নারীবান্ধব নগর পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র প্রকল্পে সরকারি সহায়তা, জীবনব্যাপী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ভিকটিম সাপোর্ট ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
জামায়াতের ইশতেহারে আরও বলা হয়, নারী, শিশু ও পরিবারের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে উন্নয়নের মূলধারায় নারীর ভূমিকা হবে দৃশ্যমান ও কার্যকর।