ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করে বিএনপি এখন হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে—এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে বিএনপি এখন প্রকাশ্য সহিংসতা ও সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে, যার জবাব জনগণ দেবে ব্যালটের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্বাচনী প্রচারে হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “৫ আগস্ট যেভাবে আওয়ামী লীগকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপিকেও সেভাবেই প্রত্যাখ্যান করবে। বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত জবাব আসবে ব্যালট বাক্সে।” তিনি দাবি করেন, ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়।

শেরপুর-৩ আসনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসনের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। তার মতে, তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠে দুটি স্পষ্ট ধারা রয়েছে—একদিকে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট, অন্যদিকে একা ও বিচ্ছিন্ন বিএনপি। তিনি বলেন, “জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের হত্যা করে এই আন্দোলন দমন করা যাবে না। ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রতিটি হত্যার হিসাব জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি বুঝে নেবে।”

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসেন হেলাল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সহিংসতায় জড়িত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।