আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১১ আসনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও মনোনীত প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পরিকল্পিত ভূমিদস্যুতার কারণে এই এলাকায় শত শত মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল ও ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এলাকার উন্নয়নে।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা-১১ আসনের উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে প্রধান বাধা কোনো আর্থিক বা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক সংকট। তাঁর ভাষায়, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাই এই অঞ্চলে ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রায় তিন দশক ধরে তারা সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাৎ করেছে।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি প্রথমেই ভূমিদস্যুদের এই চক্র ভেঙে দেবেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি, ঢাকা-১১ আসনে আর কোনো মানুষ জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা সম্পদ হারানোর শিকার হবে না। তিনি দাবি করেন, ভূমিদস্যুতা বন্ধ করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি এই এলাকারই সন্তান। তাঁর জন্ম ঢাকার বেরাইদে, শৈশব কেটেছে বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায়। ঢাকার কেন্দ্রের এত কাছাকাছি হয়েও বাড্ডা-ভাটারা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনেক জায়গায় প্রবেশ করলে মনে হয় যেন এটি রাজধানী নয়, কোনো মফস্বল এলাকা—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নানা সংকটের মধ্যেও বাড্ডা-রামপুরা এলাকা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলন ও প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। সেই চেতনা থেকেই তিনি এই এলাকার মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানান।