আইন ও বিচারব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে মুসলিম পার্সোনাল ল প্রণয়ন এবং হাইকোর্ট বিভাগে এ–সংক্রান্ত বিশেষ বেঞ্চ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আইন অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনতার ইশতেহার’ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহারটি প্রণয়নে বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানায় দলটি।

ইশতেহারে বলা হয়, মুসলমানদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলামী শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি স্বতন্ত্র মুসলিম পার্সোনাল ল প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে দ্রুত ও বিশেষায়িত বিচার নিশ্চিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক বেঞ্চ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জামায়াতের মতে, এতে বিচার প্রক্রিয়া সহজতর হবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আইন ও বিচার সংস্কারের অংশ হিসেবে মামলার জট কমাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রসিকিউশন ব্যবস্থাকে স্বাধীন ও দক্ষ করে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার পরিপন্থী আইন সংশোধন, গুম ও নির্যাতনের মতো অভিযোগের অবসানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।

স্বরাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা খাতে জনবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। দলটির দাবি, এসব সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।