জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ব্যবসায়ী সমাজ আজ সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিরাপত্তাহীনতা ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার অভাবে। তহবিলের সুরক্ষা, সম্পদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা—এই তিন সংকট ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব সমস্যা নিরসনে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি শতাধিক ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। তাই আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, ব্যবসা ও শিল্পকে রাষ্ট্রকে শিশুর মতো যত্ন করে আগলে রাখতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা ভয়হীনভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন।

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে বিদেশে পাচার করা অর্থ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা স্বেচ্ছায় অর্থ ফেরত দেবেন, রাষ্ট্র তাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করবে। এর লক্ষ্য কাউকে হেয় করা নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের সম্পর্ক তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এই দুই খাত পরস্পর নির্ভরশীল। একটির সংকট অন্যটিকে সরাসরি প্রভাবিত করে। অতীতে দেশের অর্থনীতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার—দুটোই নানা চ্যালেঞ্জে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য তিনটি খাতকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এগুলো হলো—মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প খাত এবং বাণিজ্য খাত। এর মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষ ও নৈতিক মানবসম্পদ ছাড়া কোনো শিল্প বা ব্যবসা টিকে থাকতে পারে না।

ব্যবসায়িক সফলতার জন্য চারটি বিষয়ের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন—সৎ নিয়ত, সংশ্লিষ্ট খাতে পর্যাপ্ত জ্ঞান, সংকট মোকাবিলার মানসিক দৃঢ়তা এবং সরাসরি কাজে যুক্ত থাকার মানসিকতা। তিনি বলেন, শুধু মালিক হয়ে বসে থাকলে ব্যবসা টেকসই হয় না।

শেষে নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজ ও অর্থনীতিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে মায়েদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই একটি মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয়।