গাজীপুরে এক নারী ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে দেশে চলমান নারী নিপীড়ন, সহিংসতা ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্লোগান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি গোষ্ঠী সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারত্ব ও মাফিয়াতন্ত্রের বিস্তার ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় নারী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে। গাজীপুরে নারী ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড সেই সহিংস রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, নারী নিপীড়ন ও সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ভয়ংকর সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবিলম্বে এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে নারী নির্যাতন, খুন ও চাঁদাবাজির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। গাজীপুরের নিহত নারী ব্যবসায়ীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশ থেকে নারী নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।