শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। জোটের দাবি, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সরাসরি উসকানি এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার ফলেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রশাসন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল বলেও তারা মনে করে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে জোটটি। শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবাদ জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ প্রত্যাশিত ছিল। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতায় রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও জোরদার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেরপুরের ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে ভেঙে দিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম মাঠে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজনে প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত হলেও বিএনপির প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা দেরিতে পৌঁছান। এ সময় আসন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। জামায়াত পক্ষ সমঝোতার চেষ্টা করলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের উসকানিতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ করা হয়, পুলিশ ও প্রশাসন তখন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।

পরবর্তীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝিনাইগাতী বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা চালায়। সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষের একপর্যায়ে জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জোটের নেতারা দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।