গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহারের ঘটনাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এমন দমনমূলক আচরণ গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের হামলায় আহত ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন মাসুদ এবং পল্টন থানা জামায়াতের আমির শাহিন আহমেদ খান। তারা আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং রাকসুর সাবেক জিএস আম্মারের আহত হওয়ার ঘটনা গভীরভাবে চিন্তার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমন করতে গিয়ে শক্তি প্রয়োগ কোনো সমাধান নয়; বরং এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার, যা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “যেসব পুলিশ সদস্য এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আহত আন্দোলনকারীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।