নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে, যা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীতে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, একটি দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে। “যে কমিশনের দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা, তারাই এখন একটি দলের পদলেহনে ব্যস্ত,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মনিরা শারমিন আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচনের পরিবেশ প্রভাবিত করার সুস্পষ্ট চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীদের ও কর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ভয়ংকর বার্তা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি দলের নির্দেশনায় কাজ করে কমিশন নিজের সাংবিধানিক অবস্থানকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তারিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, মাঠ পর্যায়ে বিএনপির পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে প্রকাশ্যে ভোট চাইছে, যা রাজনৈতিক বাস্তবতার এক উদ্বেগজনক চিত্র।
জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনসিপির জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক বলেন, এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া উপকমিটির সদস্য শাওন মাহফুজ এবং ডায়াস্পোরা এলায়েন্সের আহ্বায়ক সাইফ ইবনে সারোয়ার।