ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী মাঠে এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বক্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা। তিনি অভিযোগ করেন, ওই প্রার্থী নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচি তুলে ধরার পরিবর্তে বারবার বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করছেন, যা নির্বাচনী শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক সৌজন্যের পরিপন্থী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনে জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা শেষে এক পথসভায় এসব কথা বলেন মাহফুজ কবির মুক্তা। তিনি বলেন, “নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মানে নিজের দলের আদর্শ, ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা। অথচ দেখা যাচ্ছে, একজন প্রার্থী নিজের প্রার্থিতার কথাই ভুলে গিয়ে অন্য দলের শীর্ষ নেতার নাম উচ্চারণ করে ভোট চাইছেন।”
মাহফুজ কবির মুক্তা আরও বলেন, বিএনপি একটি গণমানুষের দল। এই দলের রাজনীতির ভিত্তি সাধারণ মানুষের অধিকার, মতামত ও প্রত্যাশা। বিএনপি সবসময় জনগণের কাছে নিজেদের কর্মসূচি ও অঙ্গীকার তুলে ধরেই রাজনীতি করে এসেছে। “আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি আমাদের ইশতেহার নিয়ে, আমাদের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই বিএনপির শক্তির মূল উৎস,”—যোগ করেন তিনি।
স্বাধীনতার পর দেশের নির্বাচন ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে, তার প্রায় সবকটিতেই বিএনপি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, জনগণের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।
ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ টেনে মাহফুজ কবির মুক্তা বলেন, “এই আসনের মানুষের জন্য এটি একটি গর্বের বিষয় যে, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া তারেক রহমান এখান থেকেই নির্বাচন করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।” তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে নিজের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি যদি সত্যিই জনগণের সমর্থন চান, তাহলে নিজের দলের ইশতেহার নিয়ে মানুষের কাছে যান। এই আসনের মানুষের জন্য আপনি কী করবেন, কীভাবে উন্নয়ন করবেন—সেটাই বলুন। অন্যের নাম ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার রাজনীতি আমরা প্রত্যাখ্যান করি।”
সভায় জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান ডাবলুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন, সহসভাপতি আজিজুস সামাদ, দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান। এ সময় দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।