বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ছাত্রশিবির সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনো ট্রাম্প কার্ড ব্যবহার করে ছাত্রশিবিরের এই কাফেলাকে আর আটকে রাখা যাবে না।”

শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‍্যালিটি দোয়েল চত্বর, টিএসসি হয়ে শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগানের পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন।

র‍্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ছাত্রশিবিরকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্যাতন, গুম ও হত্যার মধ্য দিয়েও সংগঠনের আদর্শ ও সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ছড়িয়ে আছে।”

শহীদ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে শিবির সভাপতি বলেন, “ওসমান হাদি জীবন দিয়েছেন, কিন্তু তার রক্ত থেকেই আজ অসংখ্য প্রতিবাদী তরুণ জন্ম নিচ্ছে। তারা জানে কীভাবে দেশের পতাকাকে শকুনের হাত থেকে রক্ষা করতে হয়।”

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতেই ছাত্রশিবির কাজ করবে।

সমাবেশে সংগঠনের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্রশিবিরকে রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বহু নেতাকর্মী গুম, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তবুও আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে সংগঠনটি আজ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

সমাবেশে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শহীদ ওসমান হাদিসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানান।