রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নৌ-পরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের যোগাযোগ খাত সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। তাই এই খাতকে দুর্নীতি, অপচয় ও সিন্ডিকেটমুক্ত করে সেবার মান বাড়ানোই সরকারের অগ্রাধিকার।

মন্ত্রী জানান, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কাজই মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। সড়ক, নৌ ও রেল—এই তিন খাতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানো এবং নিরাপদ ও সময়োপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ যেন জনগণের প্রয়োজনেই ব্যয় হয়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান এবং বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকারপ্রধান যে আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করাই তার প্রধান দায়িত্ব। কথার চেয়ে কাজে প্রমাণ দিতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ যেন বাস্তব পরিবর্তন অনুভব করতে পারে, সে লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয়গুলো পরিচালিত হবে।

এ সময় নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীরা বলেন, জনগণের ভোটে পাওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তারা জানান, পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সেবাধর্মী ও জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কাঠামো জোরদার করা হবে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য যোগাযোগ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের কথাও তুলে ধরেন তারা।

আলোচনার শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের পরিবহন খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে এবং একটি সত্যিকারের জনবান্ধব প্রশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাবে।