সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত গাড়িতেই চলাফেরা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবস থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। বুধবার সারাদিনের রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কর্মসূচিতে তিনি নিজের সাদা রঙের টয়োটা গাড়িতেই যাতায়াত করেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বাসসকে জানান, বুধবার সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়িতে করে সাভারে যান। সেখানে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর একই গাড়িতে তিনি রাজধানীর শেরে বাংলা নগর-এ যান। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

প্রেস সচিব আরও জানান, যানজট ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহর উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করা হয়েছে। আগে যেখানে গাড়িবহরে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকত, সেখানে বুধবার তা কমিয়ে মাত্র চারটি করা হয়। এর মাধ্যমে রাজধানীর সড়কে ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শপথ নেওয়ার পর প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান কিংবা বিদেশি অতিথিদের সফরের সময় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজনের স্থান পরিবর্তন। তিনি এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে অধিকাংশ সময় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হলে সচিবালয় থেকে মন্ত্রীদের যাতায়াতে বড় ধরনের যানজট তৈরি হয় এবং ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই পাশে অতিরিক্ত পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েনের যে প্রচলিত নিয়ম ছিল, সেটিও বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় শৃঙ্খলা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিতে চান প্রধানমন্ত্রী—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।