আসন্ন গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়বে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বলে জানিয়েছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্টস ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রান্ত তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে।

প্রেস উইং জানায়, বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের পুরোনো ফটোকার্ডও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। ওই ফটোকার্ডে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন।’ তবে এই বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি তোলা হচ্ছে।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কখনোই বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন বা ছয় মাস বাড়তি সময় ক্ষমতায় থাকবে। তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ হলো—নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং সরকার গঠন করবেন। একই সঙ্গে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনে তারা আলাদা শপথ নিয়ে সীমিত সময়ের জন্য একটি সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রেস উইং আরও জানায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর বিধান অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হলে পরবর্তী সংসদের সদস্যরা দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেন। তারা একদিকে সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ হবে এবং এরপর এই দ্বৈত ভূমিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, প্রচলিত কোনো আইন, আদেশ বা ঘোষণায় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণভোট ঘিরে যেকোনো ধরনের অপতথ্য ও গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।