বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে আসছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন—যেখানে প্রধানমন্ত্রী আর দলীয় প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারবেন না। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন রূপরেখা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে অ্যাডভোকেট শিশির মনির এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শাসন কাঠামোয় একেবারে মূল নীতিগত পরিবর্তন আসছে—যা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
শিশির মনির বলেন, আগে আমরা দেখেছি, একজন ব্যক্তি একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান হিসেবে ক্ষমতা পরিচালনা করতেন। কিন্তু নতুন কাঠামোয় এই দ্বৈত দায়িত্ব আর রাখা হবে না। পাশাপাশি কেউ ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এরপর তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘কনস্টিটিউশনালি ইনভ্যালিড’ হয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র এখন সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের সেই ইতিহাসকে কাঠামোগত বাস্তবতায় রূপ দিতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গঠন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।
নতুন কাঠামোয় সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট হবে—একটি নিম্নকক্ষ (সংসদ) ও অন্যটি উচ্চকক্ষ (সিনেট) নামে পরিচিত হবে। উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারিত হবে জাতীয় নির্বাচনে কোনো দলের প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারে। যেমন, কোনো দল যদি ২০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে ১০০ আসনের সিনেটে ২০টি আসন পাবে। এ ব্যবস্থায় এককভাবে কোনো দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন প্রায় অসম্ভব হবে।
উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ উভয়েরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার থাকবেন, তবে দুই কক্ষের ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদেও বড় সংশোধন আসছে। শিশির মনির জানান, অর্থবিল ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্যান্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যরা নিজেদের দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও ভোট দিতে পারবেন। এতে সংসদ সদস্যদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাড়বে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে নভেম্বরে গণভোট আয়োজন করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।