চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের হরতাল শুরু করেছেন। বুধবার এই আন্দোলন পঞ্চম দিনে পৌঁছায়, যার ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটিতে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

হরতালের কারণে বন্দরের প্রতিটি জেটি এবং টার্মিনালে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামার সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), এনসিটি এবং জেনারেল কার্গো বার্থে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক অপারেশনও তত্ক্ষণাত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। হুমায়ুন কবির, সমন্বয়ক, জানিয়েছেন, “এনসিটির ইজারা বাতিল এবং শ্রমিকদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। বন্দরের অপারেশনাল কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, এমনকি বহির্নোঙরেও কাজ থেমে গেছে।”

মূলত, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রক্রিয়ার আওতায় জি-টু-জি ভিত্তিতে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে গেলে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমে পড়েন।

প্রথম দিকে আন্দোলন সীমিত ছিল মিছিল ও সমাবেশের মধ্যে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনও এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। বন্দরের শ্রমিকরা এখন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শক্তিশালী একতাবদ্ধ অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন এই হরতাল চললে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।