মুন্সিগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এক বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। শনিবার মধ্যরাতে হলপাড়া থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)–এর কয়েকজন নেতা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিচারের দাবি জানান। ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, নির্বাচনের পর দেশে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক। তাঁর বক্তব্যে তিনি প্রশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং নতুন সরকারের কাছে নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি পরিহার করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলে তা দলীয় সরকারের নয়, পুরো দেশের সরকারের মতো আচরণ করা উচিত। বিরোধী মত প্রকাশের কারণে কাউকে হয়রানি করা হবে না—এমন নিশ্চয়তা চান শিক্ষার্থীরা। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ইতিবাচক উদ্যোগ নিলে সহযোগিতা থাকবে, অন্যথায় গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ভোটে অংশ নিতে নিজ নিজ এলাকায় গিয়েছিলেন। বিজয় উদযাপন যেন সহিংসতার রূপ না নেয়—এ প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু মুন্সিগঞ্জের ঘটনার খবর ক্যাম্পাসে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।