দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) শিক্ষার্থীদের কল্যাণে মোট ১০৩টি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বলে জানিয়েছেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বাজেট না থাকায় রাকসু কার্যত অচল ছিল। তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত না বানিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করেছে বর্তমান নেতৃত্ব।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ‘রাকসুর ১০০ দিন: কার্যক্রম পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন রাকসুর ভিপি। এ সময় রাকসুর গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, বাজেট সংকট ছিল দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ছাড়াই দীর্ঘদিন রাকসুকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আমরা বসে না থেকে সীমিত সম্পদ দিয়েই ১০৩টি কাজ সম্পন্ন করেছি। তিনি আরও বলেন, ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান বাজেটের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি অর্থ প্রয়োজন। সেই অর্থের সংস্থান করাই এখন আমাদের বড় লড়াই।

তিনি জানান, আবাসিকতা ও অনাবাসিক ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সবচেয়ে জটিল। ইতোমধ্যে নতুন সাতটি হলের বরাদ্দ আদায়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। শতভাগ ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাকসু বদ্ধপরিকর বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির ১০০ দিনের কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হল সংসদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও সম্মেলনের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাকসুর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে বিভিন্ন নীতিগত প্রস্তাবনা, শোককালীন সময়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয়তা আনার দাবি, আবাসিক এলাকায় দ্রুতগতির যান চলাচল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ এবং হলগুলোতে ইন্টারনেট সমস্যা সমাধানে আইসিটি সেন্টারের সঙ্গে সমন্বয়।

এ ছাড়া পরিবহন সুবিধা বাড়াতে বাসের ট্রিপ বৃদ্ধির দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সহায়তায় ‘টেক হেল্প ডেস্ক’ চালুর রোডম্যাপ, মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান এবং নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও তুলে ধরা হয়।