আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও সাইবার নিরাপত্তা এখন আর তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে—এমন মন্তব্য করেছেন ইউনেস্কোর বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ। তিনি বলেন, ভোটের প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রতিটি ধাপে সাইবার নিরাপত্তা একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের (এএসএএসআর) সেমিনার কক্ষে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘ইলেক্টোরাল ইন্টিগ্রিটি: ফ্রম ক্যাম্পেইনিং টু ভোট কাউন্টিং অ্যান্ড দ্য রেজাল্ট ডিক্লেয়ারেশন’ শীর্ষক এই আয়োজন। পলিটিক্যাল অ্যান্ড পলিসি সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশন (পিপিএসআরএফ) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ইউনেস্কো, বাংলাদেশ পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিল।

সেমিনারের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পিপিএসআরএফ-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান। তিনি ‘লিগ্যাল ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে একটি নতুন ধারণার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, এবারের নির্বাচনে প্রথাগত কারচুপির পাশাপাশি ডিজিটাল কৌশলের মাধ্যমে ভোটারদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার ঝুঁকি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ছোট কমিউনিটি গ্রুপে অ্যালগরিদমিক টুল ব্যবহার করে দোদুল্যমান ভোটারদের সিদ্ধান্ত পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে, যা সরাসরি বেআইনি না হলেও নির্বাচনের ফলাফলে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

ইউনেস্কো প্রতিনিধি সুজান ভাইজ বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় সাইবার নিরাপত্তা ততটা আলোচনায় আসেনি। কিন্তু বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এ কারণে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণকে ধারাবাহিক ও পরিবর্তন-সক্ষম প্রক্রিয়া হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।

অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসন তার দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নরওয়েতে নির্বাচন মানেই উন্মুক্ত বিতর্ক, নীতিনির্ভর আলোচনা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। এছাড়া শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার ড. জর্জ কুক জনগণকে নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নীতি ও অগ্রাধিকার বিচার এবং নির্বাচনের পর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি ও শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।