দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বৈঠক শেষে ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম স্পষ্ট ভাষায় জানান, জুলাই বিপ্লবের উত্তরসূরি তরুণরা জীবিত থাকতে বাংলাদেশে আর কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটারসহ দেশের ১২ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কারচুপি বা কৌশলী হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।
নির্বাচনকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ইসির জারি করা সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক উৎসব। সেখানে জনগণের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হলে সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে ডাকসুর পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে এবং কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা হবে।
নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিএনসিসিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সাদিক কায়েম বলেন, বিএনসিসি একটি প্রশিক্ষিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী, যাদের পেশাদারিত্ব অনেক ক্ষেত্রেই অন্যদের তুলনায় বেশি। কমিশনের কাছে তাদের পুনরায় নির্বাচনী দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী, বিশেষ করে নারী প্রার্থীদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসু ভিপি। তিনি বলেন, সারা দেশে যে নির্বাচনী উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, তা নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সবশেষে জুলাই প্রজন্মের অবস্থান তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ উসমান হাদির উত্তরসূরি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আমরা নজর রাখব। কে কোথায় কারচুপি করতে চায়—সবকিছুর প্রমাণ সংরক্ষণ করা হবে। কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসতে দেওয়া হবে না।”