ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশনের আচরণ এবং হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তসমূহ নিয়ে। দলের মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপর ভয়ভীতি এবং প্রভাব বিস্তার দেখানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোট, যার মধ্যে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীও ছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জোটের নেতারা।
সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও জনপ্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তারা ভোটারদের নির্দিষ্ট দলে ভোট দিতে চাপ দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপকে কল দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগের লিখিত জবাব না পাওয়া নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স থাকা আবশ্যক ছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শিগগিরই বদলি বা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এনসিপি নেতারা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামের অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নজরুল ইসলাম বাবলু এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে শিথিল করা হবে। এ সিদ্ধান্ত এনসিপি ও অন্যান্য দলগুলোর উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।
এনসিপি নেতাদের মতে, ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এখন সময় এসেছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভুল পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া তাদের মূল দাবি।