চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। ধর্মঘটের কারণে বন্দর কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে, যানবাহন প্রবেশ নেই বললেই চলে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বন্দর ভবনের ৪ নম্বর গেটে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙর (আউটার লাইটারেজ)–এর সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মবিরতির ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও পরিচালনার কাজ প্রভাবিত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে জরুরি সভায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গত শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। তিনি জানান, এনসিটি ইজারা না দেওয়ার দাবির পাশাপাশি তিনটি মূল দাবি রয়েছে—চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাসহ সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ করা।

ইব্রাহিম খোকন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অনির্দিষ্টকালীন কর্মবিরতি চলবে। গতকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের নেতাদের হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছে। দুই শ্রমিক নেতা শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না।”

পরিষদের অন্য সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন। ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ধর্মঘটের পর নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পালন না হওয়ায় এবার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বন্দরের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সতর্ক নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।