ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া আরও বাস্তবসম্মত করতে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করে তার পরিবর্তে শুধু অর্থদণ্ড বা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে করে উপাত্ত সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে শাস্তির ধরনে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, যা গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করা হয়। সংশোধিত অধ্যাদেশটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’, যা জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
সংশোধনীতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো বা ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিআইআই) সংক্রান্ত উপাত্ত সংরক্ষণে নতুন বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ সংজ্ঞায়িত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর আওতায় থাকা যেকোনো উপাত্ত ক্লাউডে সংরক্ষণ করা হলেও তার একটি সিংক্রোনাইজড রিয়াল-টাইম কপি অবশ্যই বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে রাখতে হবে। একই নিয়ম সীমাবদ্ধ বা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
আইন সংশোধনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো শাস্তির বিধানে পরিবর্তন। মূল অধ্যাদেশের ৪৮ ধারায় যেখানে আগে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য ‘কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে’ শাস্তির কথা বলা ছিল, সেখানে সংশোধনের মাধ্যমে কেবল ‘অর্থদণ্ডে’ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধের জন্য এখন আর কারাদণ্ডের ঝুঁকি থাকছে না, বরং আর্থিক জরিমানার মাধ্যমেই শাস্তি কার্যকর হবে।
রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার কাঠামো আরও সুস্পষ্ট হলো, অন্যদিকে আইন প্রয়োগে বাস্তবতা ও প্রযুক্তিগত চাহিদার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব হয়েছে।