স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সব ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি—এমন বাস্তবতা স্বীকার করে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। তাদের সঙ্গে আচরণে কোনো রকম অবহেলা বা গাফিলতি কাম্য নয়।
বুধবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে এলে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান, আন্তরিকতা ও পেশাদার আচরণের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। এটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং জাতির নৈতিক দায়।
মন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ইতিহাস সংরক্ষণে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সংবেদনশীলতা ও দায়বদ্ধতা জরুরি। সময়ানুবর্তিতা, পেশাগত নিষ্ঠা এবং সেবামুখী মনোভাব নিয়ে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তৎকালীন মেজর ও পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা মুক্তিযুদ্ধের গতি ত্বরান্বিত করে। তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (ইবিআর) ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এর সদস্যদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মুক্তিবাহিনী জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশকে বিজয় এনে দেয়।
নিজের একাত্তরের রণাঙ্গনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী একটি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিল। বৈষম্য, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েও বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ছাত্র-যুবক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই সম্ভব হয় স্বাধীনতা।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল কেবল একটি সশস্ত্র সংগ্রাম নয়; এটি ছিল জনগণের ঐক্য, সাহস ও আত্মত্যাগের অনন্য উদাহরণ। সেই চেতনাকে ধারণ করেই মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।