বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম আর নেই। মঙ্গলবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকালীন সময়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মাইলামের মৃত্যুর খবর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সাবেক কূটনীতিক জন এফ. ড্যানিলোভিচ। একই তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করেন মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি জানান, মাইলামের কন্যা ও Princeton University-এর অধ্যাপক এরিকা মাইলামের ইমেইলের বরাতেই এ তথ্য জানা গেছে।

উইলিয়াম বি. মাইলাম ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রয়াত সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর শাসনামলের শেষভাগ এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময় বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সে সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণ, গণতন্ত্রের পথে যাত্রা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা ও সমন্বয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে মাইলাম কেবল বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি ও কূটনীতির ওপরও গভীর আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন। দায়িত্ব শেষে অবসর গ্রহণের পরও তিনি বাংলাদেশ বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছর তিনি আবারও ঢাকা সফরে এসেছিলেন। সে সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল।

উইলিয়াম মাইলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশে কর্মরত ও সাবেক অনেক কূটনীতিক, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকরা তাকে স্মরণ করছেন একজন অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল ও বাংলাদেশ-বান্ধব কূটনীতিক হিসেবে। তার প্রয়াণে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এক স্মরণীয় অধ্যায়ের অবসান হলো বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।