বিদ্যুৎ খাতের প্রিপেইড মিটার তৈরির প্রকল্পে কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ থেকে ২০২৩ সালের ৩১ মে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটার উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং প্রশিক্ষণ খাতে প্রায় ৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ বা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তদন্তে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা ইতোমধ্যে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং ৩০ কোটি ৭৮ লাখ টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা হয়েছিল, যা দুদকের হস্তক্ষেপে রোধ করা সম্ভব হয়।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন—ওজোপাডিকোর সাবেক এমডি মো. শফিক উদ্দিন, বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানির (বিএসইসিও) সাবেক পরিচালক (অর্থ) আব্দুল মোতালেব, এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. ইয়ে ওয়েনজুন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর ওজোপাডিকো ও চীনের হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে খুলনায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসইসিও)’। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় ব্যবস্থাপনায় প্রিপেইড মিটার উৎপাদন, সংযোজন ও বাজারজাত করা। কিন্তু সেই প্রকল্পে প্রশিক্ষণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বিভিন্ন খাত থেকে মিথ্যা বিল ও অপ্রদত্ত সেবার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ—প্রশিক্ষণ খাতে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, রিপেয়ার ট্রেনিং বাবদ ৭ লাখ টাকা, টেকনিক্যাল সাপোর্ট সার্ভিসে ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা, তিন বছরের ওয়ারেন্টি মিটার বাবদ ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ইত্যাদি অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় দেখানো হয়।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। সংস্থাটি মনে করছে, সরকারি খাতের এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধে এই মামলা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।