আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে অবশ্যই ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত ভোটার উপস্থিতি কখনোই সম্ভব নয়, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নগরের টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ফ্রান্স দূতাবাসের রাজনৈতিক বিষয়ক কাউন্সিলর ক্রিশ্চিয়ান বেক এবং অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকার পরিচালক ব্রুনো লাক্রাম্প।
মতবিনিময় সভায় প্রতিনিধিদল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন—সে বিষয়ে মেয়রের অভিমত জানতে চান। জবাবে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক উৎসবে রূপ দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তরুণ ভোটারদের প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে এমন কোনো জাতীয় নির্বাচন হয়নি, যা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে হলে আসন্ন নির্বাচনকে একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচনে পরিণত করা জরুরি।
নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ওপর জোর দেন চসিক মেয়র। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন কল্পনাই করা যায় না। কমিশনের দায়িত্ব হবে ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করা—ভয় তৈরি করা নয়।
মুক্ত গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নির্ভয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম কাভার করার সুযোগ দিতে হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, পোলিং এজেন্ট ও নাগরিক সমাজের অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে ফরাসি প্রতিনিধিদল মেয়রের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করে। এ সময় চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।