নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে না যাওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা জানান, দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত আছেন।
যমুনার সামনে জড়ো হওয়া কর্মচারীদের অনেককে সাদা কাপড়ে দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি প্রতীকী প্রতিবাদ—ন্যায্য অধিকার আদায়ে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সরকারি চাকরিজীবীরা এক কণ্ঠে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো স্থবির থাকায় তাদের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে।
নরসিংদী থেকে আসা এক সরকারি কর্মচারী বলেন, গত প্রায় এক দশক ধরে বেতন কাঠামোতে কার্যকর কোনো পরিবর্তন হয়নি। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় বাস্তবে আয় বেড়েছে শূন্যের কাছাকাছি। অথচ চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। এই বেতনে ঘরভাড়া দেওয়া, সন্তানদের পড়াশোনা করানো কিংবা চিকিৎসা ব্যয় মেটানো—সবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানিকগঞ্জ থেকে আগত আরেক কর্মচারী জানান, বারবার আশ্বাসে তারা ক্লান্ত। এবার আর মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, লিখিত প্রজ্ঞাপন ছাড়া তারা ফিরবেন না। তার ভাষায়, “আমরা ভিক্ষা চাই না, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।”
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে সবচেয়ে বড় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরাই। পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে প্রজ্ঞাপন আটকে থাকাকে তারা অবহেলা ও অবিচার হিসেবে দেখছেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান বেতন কাঠামোয় পরিবার চালানো কার্যত অসম্ভব। অনেক কর্মচারী ঋণের বোঝায় জর্জরিত, সন্তানের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনের আগেই ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। দাবি মানা না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে এবং যেখানেই বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।