স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি বলে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ: ছবিতে পৃথিবীর প্রতিধ্বনি’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্ষমতায় যারা আসে, তারা প্রায়শই ঘোষণা দেন—“আর কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন বা ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর হবে না।” ফলে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও দেশবাসী কখনো গণতন্ত্রের প্রকৃত সুফল দেখতে পারেনি।
উপদেষ্টা বলেন, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি তিনি অভিহিত করেন “পচে যাওয়া সমাজের ফল” হিসেবে। একাত্তরের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ১৯-২২ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা আনলেও ক্ষমতা হস্তান্তরের সংস্কৃতি স্থাপন হয়নি। এ কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছরেও গণতন্ত্রের সুফল সাধারণ নাগরিকের কাছে পৌঁছায়নি।
শারমিন এস মুরশিদ নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই তরুণরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম। দেশকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও ন্যায্য পথে পরিচালিত করতে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায়—even যদি এদেরকে ‘এনজিও সরকার’ বলা হয়—তবু দেশের বিদগ্ধ নাগরিক, সমাজবিজ্ঞানী বা পরিবেশবিদরা দেশকে সুষ্ঠুভাবে চালানোর ক্ষমতা রাখে। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, এমন নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে যারা দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
প্রদর্শনীতে উপস্থিত দর্শকরা এবং বিভিন্ন বয়সী নাগরিকদের সামনে উপদেষ্টা স্মরণ করান জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহীদদের। তিনি বলেন, “হাদি, আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের আত্মত্যাগ যেন অর্থহীন না হয়। তাদের ত্যাগ আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের অংশ।”