প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের এই শীর্ষ বৈঠককে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির খাসকক্ষেই এই একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টার কিছু আগে নির্বাচন ভবন থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছান সিইসি। সাধারণত তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনারদের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ রেওয়াজ হিসেবে থাকলেও এবার একাই সাক্ষাৎ করেন সিইসি, সঙ্গে ছিলেন তাঁর সচিব।
বৈঠকে নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা, বিশেষ করে সীমানাসংক্রান্ত মামলাগুলো নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। তফসিল ঘোষণার পর যাতে কোনো রিট নির্বাচন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও আলাপ হয়েছে। পাশাপাশি ভোট পরিচালনায় বিচারকদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি ঘিরেও বিস্তর আলোচনা করেন তারা।
এদিকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সিইসির রেকর্ড করা ভাষণের প্রস্তুতি চলছে। এই ভাষণেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে নির্বাচন প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে পূর্ণ কমিশন। সবশেষ ধাপ হিসেবে বুধবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন সিইসি। ভোট ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ভোট সামনে রেখে সীমানা নির্ধারণ, প্রতীক বরাদ্দ এবং প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন নিয়ে আদালতে রিট হওয়াটা নিয়মিত ঘটনা। এ ধরনের সম্ভাব্য মামলা ও তার প্রভাব নিয়েও আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতেও সিইসিরা এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ করে থাকেন, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন নাসির উদ্দিন।
এই বৈঠককে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, আর নির্বাচনপদ্ধতি সুষ্ঠু রাখতে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়—তা এখন দেখার বিষয়।