যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হুমকির সুরে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আলোচনায় না বসলে খামেনির “অত্যন্ত চিন্তিত হওয়া উচিত”।

আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠক ঘিরে বুধবার হঠাৎ করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তখনই ট্রাম্পের এই কঠোর বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে সম্মত হয় উভয় দেশ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মাস্কাটে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। তার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাময়িকভাবে কূটনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব, তার খুব চিন্তিত হওয়া উচিত। হ্যাঁ, অত্যন্ত চিন্তিত হওয়া উচিত। তবে বাস্তবতা হলো, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে।”

যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি বাহিনীগুলোকে দেওয়া সমর্থনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কেবল পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়েই আলোচনা করতে আগ্রহী।

ইরানের এই কঠোর অবস্থানই মূলত বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছিল। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জানিয়ে দেয়— ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী আলোচনা করতে হবে, নতুবা কোনো বৈঠক হবে না। জবাবে তেহরানও আলোচনায় না বসার কঠোর অবস্থান নেয়।

শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে ফিরলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠকটি সহজ হবে না। পারমাণবিক ইস্যু ছাড়িয়ে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং ইরানের অনড় অবস্থান— এই দুইয়ের সংঘাতে আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।