দ্রুতগতির বাস, মেট্রোরেল আর আকাশচুম্বী নগরের ভিড়ের মধ্যেও বিশ্বের বহু শহরে এখনো সম্মান আর ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে ছুটে চলছে ট্রাম। অনেকের চোখে এটি নস্টালজিয়ার বাহন হলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা—ট্রাম আজও বহু শহরের গণপরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা শহরের জীবনযাত্রাকে সহজ, পরিবেশবান্ধব ও ছন্দময় করে রেখেছে।
ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া কিংবা এশিয়ার আধুনিক নগরগুলোতে ট্রাম কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং শহরের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য উপাদান। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে ট্রাম মানেই স্বাভাবিক জীবনধারা। খাল, সাইকেলপথ আর ঐতিহাসিক ভবনের ভেতর দিয়ে চলা ট্রাম স্থানীয়দের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন। এখানে ট্রাম ছাড়া শহরের দৈনন্দিন গতি কল্পনাই করা যায় না।
এশিয়ার ব্যস্ত মহানগর হংকংয়ে ডাবল ডেকার ট্রাম শহরের এক আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে। ১৯০৪ সাল থেকে চলমান এই ট্রাম ব্যবস্থা এখনও সমান জনপ্রিয়। স্বল্প খরচে শহর দেখার সুযোগ থাকায় কর্মজীবী মানুষ থেকে পর্যটক—সবার কাছেই এটি আকর্ষণীয়।
পর্তুগালের লিসবনে ট্রাম যেন ইতিহাসের সঙ্গে চলমান এক জীবন্ত সংযোগ। সরু রাস্তা আর খাড়া পাহাড় বেয়ে চলা হলুদ রঙের ট্রামগুলো শহরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। বিশেষ করে রুট ২৮ বিশ্বের অন্যতম মনোরম ট্রামপথ হিসেবে পরিচিত।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্বের বৃহত্তম ট্রাম নেটওয়ার্কের অধিকারী। শহরের কেন্দ্র থেকে উপশহর পর্যন্ত বিস্তৃত এই ব্যবস্থা প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করে। বিনামূল্যের সিটি ট্রাম পরিষেবা মেলবোর্নকে করেছে আরও বাসযোগ্য।
ইউরোপের প্রাগ ও ভিয়েনায় ট্রাম গণপরিবহনের মেরুদণ্ড। সময়নিষ্ঠতা, নির্ভরযোগ্যতা আর ঐতিহাসিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে এই শহরগুলোর ট্রাম আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার সফল উদাহরণ।
বিশ্বের এই শহরগুলো প্রমাণ করে, ট্রাম মোটেও অতীতের বাহন নয়। এটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং শহরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এক আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা—যা ধীর গতিতেই বহন করে নগরের প্রাণস্পন্দন।