ইরানে মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে ফের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হলো। দেশটির একটি আদালত তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এই রায়ের খবর ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মোস্তাফা নিলি। এই রায়কে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নতুন আঘাত হিসেবে দেখছে।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, “অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমাবেশ ও যোগসাজশ”-এর অভিযোগে আদালত নার্গিস মোহাম্মাদিকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার ওপর দুই বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা বা ‘প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর’ অভিযোগে তাকে আরও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে একাধিক মামলার সাজা মিলিয়ে তার কারাভোগের সময় আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, কারাদণ্ড শেষে নার্গিস মোহাম্মাদিকে দুই বছরের জন্য ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় সাউথ খোরাসান প্রদেশের খোসফ শহরে নির্বাসনে পাঠানো হবে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নির্বাসনের এই আদেশ মূলত তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার একটি কৌশল। ইরানে ভিন্নমত দমনে এমন শাস্তি নতুন নয়, তবে নোবেলজয়ীর ক্ষেত্রে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

২০২৩ সালে মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন ৫৩ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মাদি। বিশেষ করে ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার এবং নারীদের ওপর আরোপিত বাধ্যতামূলক পোশাকবিধির বিরুদ্ধে তার সোচ্চার অবস্থান তাকে সরকারের চোখে বিতর্কিত করে তোলে। গত ২৫ বছরে এসব ইস্যুতে কাজ করতে গিয়ে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার, বিচার ও কারাবরণের শিকার হতে হয়েছে।

গত এক দশকের বড় একটি অংশ তিনি কাটিয়েছেন কারাগারে। ২০১৫ সালের পর থেকে প্যারিসে বসবাসরত তার যমজ সন্তানদের সঙ্গেও দেখা করতে পারেননি এই মানবাধিকারকর্মী। নতুন এই রায়ের ফলে তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আন্তর্জাতিক মহলে আবারও তার মুক্তির দাবিতে জোরালো আওয়াজ ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।