ইরানের মতো বাধ্যতামূলক হিজাব আইন বাংলাদেশে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই—এমন মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ভাষ্য, পোশাক নিয়ে নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই অগ্রাধিকার পাবে; ভবিষ্যতে যদি জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে কোনো আইন চায়, কেবল তখনই সে বিষয়ে ভাবা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সাক্ষাৎকারে জামায়াত ক্ষমতায় এলে সামাজিক জীবন, নারীর অধিকার ও হিজাব নীতিসহ নানা বিতর্কিত প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়—অনেক বাংলাদেশির আশঙ্কা, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বর্তমান জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং নৈতিকতার নামে কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ওপর হিজাব চাপিয়ে দেওয়ার ভয় রয়েছে। জবাবে জুবায়ের বলেন, এসব আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং জামায়াতের শাসনে নারীরা আরও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ পাবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, জামায়াত নারীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। পোশাক কী হবে—তা নারীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কেউ হিজাব পরতে চাইলে পারবেন, আবার কেউ না চাইলে সেটিও তার স্বাধীনতা। “আমরা কোনো নারীকে কিছু পরতে বা না পরতে বাধ্য করব না,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।
নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত নেতা বলেন, তৈরি পোশাক খাতে লাখো নারী কাজ করলেও নিরাপত্তা ও ডে-কেয়ার সুবিধা নেই। শিশু সন্তানদের দেখাশোনার ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সন্তানকে কারখানায় নিয়ে যান। জামায়াত সরকারে এলে এ খাতে মানবিক ও বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। এমনকি ছোট শিশু থাকা মায়েদের জন্য কম সময় কাজ করেও পূর্ণ বেতন পাওয়ার প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন।
ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব আইনকে ভুল মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নে জুবায়ের বলেন, প্রতিটি দেশের আইন তার নিজস্ব সংবিধান ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে তৈরি হয়। ইরান, সৌদি আরব, বাংলাদেশ—সব দেশের পথ আলাদা।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে হিজাব আইন চায়, জামায়াত তা বাস্তবায়নে আপত্তি দেখবে না। “এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য—মানুষ যা চাইবে, রাষ্ট্র তা সম্মান করবে,”—বলেন তিনি।