দেশের সোনার বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলেও এবার দাম ঊর্ধ্বমুখী নয়, বরং বড় ধরনের দরপতনের খবর মিলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ পতনের প্রভাবে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন ঘোষণায় প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য দরহ্রাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাজুসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশোধিত মূল্য তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকায় বিক্রি হবে।

বাজুস জানায়, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের আন্তর্জাতিক মূল্য কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। দাম কমানোর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, রোববার আন্তর্জাতিক বাজার বন্ধ থাকলেও দেশের বাজার চালু ছিল এবং চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। সেই সুযোগে রোববার রাতেই দাম কিছুটা নামানো হয়। পরদিন সোমবার আন্তর্জাতিক বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি আউন্সে প্রায় ২০০ ডলার দরপতন হওয়ায় নতুন করে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের সাম্প্রতিক ওঠানামাও বেশ চোখে পড়ার মতো। বিশ্ববাজারে শুক্রবার যেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, বৃহস্পতিবার তা উঠেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে। কিন্তু সোমবার বাজার খোলার পর দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৬৫১ ডলারে, যা বড় ধরনের পতনের ইঙ্গিত দেয়।

তবে সোনার দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের মতোই ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৭ হাজার ২৯০ টাকা এবং অন্যান্য ক্যারেটের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক দিন আগেই সোনার বাজারে রেকর্ড দামের দেখা মিলেছিল। গত সপ্তাহে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার টাকার বেশি বাড়িয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল। সেই রেকর্ডের পর টানা দরপতন বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে বলে মনে করছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।