সাতক্ষীরায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সময় হাতের লেখার অমিল ধরা পড়ায় এক নারী প্রার্থীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত প্রার্থীর নাম আসমা খাতুন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মানবিক দিক নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ভাইভা চলাকালে সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্যরা প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার ওয়েমার শিটে থাকা হাতের লেখার সঙ্গে ভাইভা বোর্ডের সামনে দেওয়া হাতের লেখার সুস্পষ্ট অমিল লক্ষ্য করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

পরবর্তীতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হলে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা খাতুনকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানান, ভাইভা শেষে ওই নারী প্রার্থী নিজ বাসায় চলে যান। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাকে আবার ডেকে আনা হয় এবং রাত পর্যন্ত সেখানে রাখা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে লিখিত পরীক্ষা হয়তো অন্য কেউ দিয়ে থাকতে পারে, যদিও বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

তিনি আরও বলেন, মানবিক দিক থেকেও বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে। তার মতে, ওই নারী প্রার্থী দরিদ্র পরিবারের সদস্য, স্বামী শারীরিকভাবে অসুস্থ বা পঙ্গু হতে পারেন এবং তার দুইটি সন্তান রয়েছে। ভাইভা শেষ করে বাড়ি ফেরার পর আবার ডেকে এনে তাকে আটকে রাখা হয়েছে—এ বিষয়টি অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মানবিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।