ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে কড়া ভাষায় অবস্থান তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও তিনি প্রস্তুত।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সারজিস আলম বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের কারচুপি, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা গোপন নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়; এটি ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি ও বড় কথা শোনা গেলেও নির্বাচনের পর এসব নেতাদের মাঠে পাওয়া যায় না। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমি ও বালুমহাল দখলের সঙ্গে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

সারজিস আলম আরও বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পঞ্চগড়ে সংখ্যালঘুদের মন্দির ও বসতবাড়ি রক্ষায় সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কিছু এলাকায় হামলা ও দখলের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গেও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের বয়স নিয়ে হওয়া সমালোচনার জবাবে এনসিপির এই নেতা বলেন, বয়স বেশি হলেই যে কেউ সংকটকালে রাজপথে থেকেছেন—এমন নয়। পাঁচ বছরে একবার ভোটের সময় সক্রিয় হওয়া নেতারা প্রকৃত জননেতা হতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচনে জয়ী হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নির্দোষ নেতাকর্মীরাও সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে রাজনীতি করতে পারবেন। পঞ্চগড়ের জনগণের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন সারজিস আলম।