ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশের উপকূলীয় ও নদী-তীরবর্তী দুর্গম এলাকাসমূহে সাড়ে তিন হাজারের বেশি কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে এবং জনগণের জানমাল ও ভোটাধিকার সুরক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর আলী আহম্মদ মিয়া বহুমুখী মহাবিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কোস্টগার্ড মহাপরিচালক। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে গত ১৮ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৮ দিনব্যাপী সারাদেশে কোস্টগার্ডের ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। এসব প্লাটুনে মোট ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক জানান, ইতোমধ্যে কোস্টগার্ড সদস্যরা স্থলভাগ ও জলভাগে বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং নদী-বেষ্টিত ভোলা জেলার দুর্গম অঞ্চলের ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিয়মিত নৌ টহল, বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা জোনের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ, মতলব উত্তর, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে কোস্টগার্ডের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, দুষ্কৃতিকারী আটক এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে কোস্টগার্ড সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, যাতে একটি উৎসবমুখর ও ভোটবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকে।

কোস্টগার্ড মহাপরিচালক আশ্বস্ত করে বলেন, উপকূলীয় ও নদী-তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় স্ট্যাটিক ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কোস্টগার্ড এককভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনী উপকরণ সুরক্ষা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।

এর আগে সকালে তিনি মতলব উত্তর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্ভয়ে ও সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।