শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের জানাজা বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে। ঝিনাইগাতীতে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় রেজাউল করিম নিহত হন।
প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে, যেখানে ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় গোপালখিলা এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের উচ্চপদস্থ জামায়াত নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। নিহতের পরিবারের প্রতি দলীয় সহমর্মিতা জানানো হয়।
জানাজায় বক্তারা বলেন, সরকারি আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রকাশ্য হামলার শিকার হয়েছেন মাওলানা রেজাউল করিম। ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা ও পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ বলে তারা অভিযোগ করেছেন। দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে, বিএনপি দাবি করেছে, সংঘর্ষের দায় জামায়াতের। ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. লুৎফর রহমান বলেন, “বিএনপির কোনো নেতাকর্মী হামলার সঙ্গে জড়িত নয়, বরং অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যারা ময়মনসিংহ ও ঢাকায় চিকিৎসাধীন।”
নিহতের শ্বশুর বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে জামায়াত নেতারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নিহতের শাশুড়ি ও বৃদ্ধ বাবা গভীর শোকগ্রস্ত।
এই ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন। শেরপুর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত, তবে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা জোরদারের জন্য এলাকায় সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।