আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলায় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের ১৪ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি। দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হকের স্বাক্ষরে পৃথক দুটি বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়। স্থানীয় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের লিখিত অভিযোগ ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

দক্ষিণ বাদাঘাট, বিশ্বম্ভরপুর, ধনপুর, ফতেহপুর, গৌরারংসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলার বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা এই তালিকায় রয়েছেন। একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক ও যুগ্ম সম্পাদক পর্যায়ের নেতারাও বহিষ্কারের আওতায় পড়েছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বহিষ্কারাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহিষ্কৃত নেতারা বিএনপির কোনো সভা, সমাবেশ কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হক বলেন, “নির্বাচনের আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা আসতে পারে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বিএনপির এই কঠোর অবস্থান দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করার পাশাপাশি ভেতরের বিভাজন ঠেকানোর একটি বার্তা বহন করছে।