নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাগুরার মহম্মদপুরে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটি। ভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে কম্বল বিতরণের সময় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পুলিশ জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ (এমবি বাকের)-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হুসাইন আহম্মেদ কাবুলসহ পাঁচজন ওই হাসপাতালে যান। তারা কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের মাঝে কম্বল বিতরণ শুরু করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কম্বল বিতরণের সময় হাসপাতালে ভর্তি বালিদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলী আকবার মোল্যার সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এতে হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং চিকিৎসা পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. শাহনুর জামান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় ইউএনওর নির্দেশে পাঁচজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩২টি কম্বল জব্দ করা হয়।

পরদিন শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটককৃতদের মাগুরার ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক আইয়বুর রহমান সিয়াম প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা পরিশোধের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

ইউএনও মোহা. শাহনুর জামান জানান, জব্দ করা কম্বলগুলো এতিমখানায় বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর রয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের প্রতি ছাড় দেওয়া হবে না।