বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশবাসী আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত, আধিপত্যবাদী কিংবা ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চায় না। জনগণ একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হবে মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের কঠিন সময়েও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা শত নির্যাতন সহ্য করেও দেশ ছেড়ে পালায়নি। “আমরা ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ থাকব। আমরা মজলুম ছিলাম বলেই মজলুমের কষ্ট বুঝি। তাই আমরা কখনো জালিম হতে পারি না,”—বলেন তিনি।
দেশজুড়ে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “যেখানেই মা-বোনদের গায়ে হাত তোলা হবে, সেখানেই প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। সাহসী যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে, যেমন তারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।” তিনি নারী ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভয় বা হুমকিতে পিছু হটার কোনো কারণ নেই; ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মা-বোনেরা নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন—এটা আমাদের অঙ্গীকার।”
সমাবেশে তিনি বলেন, জনগণের ভোট পেলে জামায়াত ন্যায়বিচার ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তিনি ঘোষণা দেন, ক্ষমতায় গেলে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখবে দেশবাসী।
যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে তরুণদের নির্ভরশীল করা হবে না। বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে যুবকদের দেশ গড়ার দক্ষ কারিগরে পরিণত করা হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। এতে এনসিপি সভাপতি নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।