ফেনী-২ আসনে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে তিনি এই কর্মসূচি পালন করেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি তার কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অনশন শুরু করার ফলে মূল ফটক দিয়ে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পায়ে হেঁটে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে অনশন চললেও কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে বেলা সোয়া ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা ঘটনাস্থলে এসে আলোচনায় বসেন। তিনি অভিযোগগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দিলে তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া মূল ফটক ছেড়ে পাশে অবস্থান নেন।

অনশনরত অবস্থায় তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ফেনী-২ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রকাশ্যেই লঙ্ঘিত হচ্ছে। প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। তার অভিযোগ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন তাকে হুমকি ও ধমকি দিয়েছেন, কিন্তু এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষকে বিলবোর্ড ও রঙিন প্রচারণায় একতরফা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা জানান, সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে অনশনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ লিখিতভাবে পাওয়া গেছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী কখনো লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।