আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, চোরাচালান বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্তকে কেন্দ্র করে যাতে মাদক, অস্ত্র পাচার বা অন্য কোনো অপরাধমূলক তৎপরতা ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবির টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সীমান্তবর্তী সব বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম এবং ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট, যেখানে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।
ভারত থেকে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী সীমান্ত পেরিয়ে নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পতাকা বৈঠক ও সমন্বিত টহলের মাধ্যমে উভয় পক্ষই সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, রাজশাহী সেক্টরের আওতাধীন ৭টি জেলায় ৬২টি উপজেলা ও একটি সিটি করপোরেশনের ৩৭টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন নিরাপত্তায় ৬৫টি বেইজ ক্যাম্প থেকে ১৪৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া সীমান্তের ৭৬টি বিওপিতে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে স্পিডবোট ও ফাস্ট পেট্রোল ক্রাফট দিয়ে দিন-রাত রিভারাইন টহল চলবে। রাজশাহী সিটি এলাকায় থাকবে এপিসিসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স ও কে-৯ ইউনিট।
কর্নেল কামাল হোসেন বলেন, “ভোটাররা যেন নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” এজন্য বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠে কাজ করছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।