আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল বা ভয়ভীতি দেখানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদের প্রতি ভোর থেকেই কেন্দ্রে অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১২ তারিখ সকালে সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন এবং ভোটের ফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছেড়ে যাবেন না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াত মনোনীত ও ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনি সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তরুণ প্রজন্ম কখনোই ভয় পায়নি এবং আগামীতেও ভয় পাবে না। কামান, পুলিশ কিংবা সেনা মোতায়েন করে এই প্রজন্মকে দমন করার চিন্তা করলে তা হবে ইতিহাসের ভুল অধ্যায়। তিনি দাবি করেন, অতীতে ক্ষমতাসীনরা তরুণদের রক্ত ব্যবহার করে ক্ষমতায় গেছে, কিন্তু এখন সেই তরুণরাই নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
ভোটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো চাঁদাবাজ বা টেন্ডারবাজের হাতে ভোটকেন্দ্র ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সকালেই যেন তারা ভোটকেন্দ্রে চলে যান। যারা ভয় দেখাতে আসে, তারাই আসলে আতঙ্কিত—এই মন্তব্য করে তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে মা-বোনদের সঙ্গে নিয়েই অবস্থান করবেন তারা।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি তাদের বিপক্ষেও ভোট দিতে চায়, তবুও যেন সে নিরাপদে ভোট দিতে পারে—এই নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। ভোটাধিকার সুরক্ষাই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অতীতের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রশাসন ব্যবহার করে ব্যালট ছিনতাই ও ডামি ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে। তিনি প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগের পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করলে তরুণ সমাজ তা মেনে নেবে না।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে সমতার ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ—যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং পরিচয়ের একমাত্র ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশি’।
সবশেষে তিনি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে ভোট চেয়ে বলেন, তিনি শুধু বাউফলের নয়, সারা দেশের সম্পদ। ১২ তারিখ তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জামায়াত, এনসিপি, খেলাফতে মজলিস ও এবি পার্টিসহ ১০ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।